হিংসায় অধিকার
হিংসায় অধিকার: বিপ্লবী পুলিন দাস
“গান্ধীর সহিত আমার সাক্ষাৎকারের কয়েকদিন পরের ঘটনা। একদিন সি. আর. দাসের বাড়ীতে গান্ধী কোনও বিষয়ে আলােচনায় রত ছিলেন। সেখানে অনুশীলন, যুগান্তর সমিতির কয়েকজন সভ্য, শ্রীশ চট্টোপাধ্যায় ও আরও কয়েকজন উকীল, কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী এবং সৌকত আলী প্রমুখ কয়েকজন মুসলমান নেতাও উপস্থিত ছিলেন। রবি সেন ও অনুশীলন সমিতির অপর কয়েকজন সভ্যের সহিত আমিও তথায় উপস্থিত ছিলাম। সেই সময়ে গান্ধী মােফলা বিদ্রোহ ও মােফলাগণ কর্তৃক হিন্দুগণকে বলপ্রয়ােগ ও ভীতি প্রদর্শন দ্বারা মুসলমান করা সম্পর্কেই আলােচনা করিতেছিলেন। গান্ধী বলিতেছিলেন যে, মােফলাগণের অত্যাচারের অনেক ভয়াবহ বিবরণ তিনি পাইয়াছেন। কিন্তু গান্ধীর এই উক্তির প্রতি সৌকত আলী ও অপর কয়েকজন মুসলমান নেতা অবজ্ঞার ভাবই প্রকাশ করিলেন।
গান্ধী অহিংসা নীতির গুণকীর্তনে রত হইলে একজন মুসলমান নেতা বলিয়া উঠিলেন, আমি আমার ধর্মের জন্য প্রয়ােজন হইলে কিন্তু অহিংস থাকিতে পারিব না।
গান্ধী বলিলেন, হাঁ, হাঁ, আমি ত তােমাকে সেই অধিকার পূর্বেই দিয়াছি।
তৎক্ষণাৎ একজন হিন্দু যুবক দাঁড়াইয়া বলিল, তবে আমরাও আমাদের ধর্মের জন্য প্রয়ােজন হইলে হিংসা নীতি অবলম্বন করিতে পারিব?
গান্ধী জানাইলেন, না, না, তােমরা পারিবে না। কারণ তােমাদের ধর্মে হিংসা সর্বতােভাবেই নিষিদ্ধ। কিন্তু সৌকত আলী মুসলমান, তাহাদের ধর্মে হিংসার স্থান আছে।
হিন্দু যুবকটি গান্ধীর যুক্তিতে নিরস্ত হইতে না পারিয়া পুনরায় বলিল আমাদের গীতার মধ্যেও ত হিংসার স্থান আছে।
গান্ধী প্রবল আপত্তি জানাইলেন এবং বলিলেন, তােমরা গীতার যে অংশের ঐরূপ ব্যবহার কর, আসলে উহার অর্থ ভিন্ন। আমি তােমাদের চেয়ে বেশী জানি, তােমাদের অপেক্ষা অত্যন্ত ভালভাবেই আমি গীতা পড়িয়াছি।”
― বিপ্লবী পুলিন দাস। ভবতোষ রায় সম্পাদিত ‘আত্মকথা’।
প্রকাশক: চিত্ততোষ রায়। গীতা পাবলিশার্স। ৪৭, কৈলাস বোস স্ট্রিট, কলিকাতা―৬



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন