পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অমৃতের সন্ধানে: চতুর্থ পর্ব

ছবি
 অমৃতের সন্ধানে: চতুর্থ পর্ব -অভিরাম গোস্বামী -সুতীর্থা © আমাগো একখান দ্যাশ আসিলো তৃতীয় পর্বের (https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=235389858155789&id=108458550848921) পর:  এবার পদ্মা পেরোতে হবে। গোয়ালন্দঘাট রেলস্টেশন পেরিয়ে এগিয়ে চলেন সন্ন্যাসী। কত ইতিহাস, কত ব্যস্ততা, কত আবেগ এই জড়িয়ে আছে এই রেলস্টেশনটির পরতে পরতে। এখানেই ট্রেনে ওঠার সময় অত্যাচারী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট অ্যালেন-এর গায়ে রিভলভার ঠেকিয়ে গুলি করেন শিশির গুহরায়‌। সঙ্গে ছিলেন সত্যেন বসু এবং শচীন ব্যানার্জী। শেষপর্যন্ত সাহেব প্রাণে বেঁচে গেলেও এটিই ছিল ব্রিটিশসিংহের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নবজাগ্রত বঙ্গের প্রথম প্রত্যুত্তর। নাহ, আজকের ভারতবাসী এই ইতিহাস মনে রাখেনি। রাজেন্দ্রলালকেই বা চেনে ক'জন? পদ্মার উচ্ছল তরঙ্গমালা ভেদ করে লঞ্চ ছুটে চলেছে পাটুরিয়া ফেরীঘাটের দিকে। দিনের শেষে বিদায়ী সূর্য তার অকৃপণ রঙের ভাণ্ডার ঢেলে দিয়েছে পশ্চিম দিগন্তে। দিঙমণ্ডল ব্যাপ্ত করে মুক্তবেণী গঙ্গার আদরের কন্যা পদ্মার জলে এসে উপচে পড়ে সেই রঙের বন্যা। কিন্তু তাও পদ্মা যেন সন্ন্যাসীর কানে কানে বলতে থাকে, ওগো, আমি চিরকাল ...

অমৃতের সন্ধানে: তৃতীয় পর্ব

ছবি
  অমৃতের সন্ধানে: পর্ব ৩ © আমাগো একখান দ্যাশ আসিলো ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলেন সন্ন্যাসী। ফরিদপুরের লোনসিং গ্রামের দিকে। নিজের সময়ে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অস্ত্রবিশারদ, লাঠিসেনাপতি পুলিনবিহারী দাশ এই গ্রামেরই কীর্তিমান সন্তান। কতবার যে তাঁর অনুশীলন সমিতির সভ্যরা পূর্ববঙ্গে মু.সলিম লীগের গুণ্ডাদের হাত থেকে হিন্দুর প্রাণ-মান রক্ষা করেছে তা গুণে শেষ করা যাবেনা। শুধু লাঠিখেলাতেই নয়, ছোরাখেলা, যুযুৎসু ইত্যাদি লড়াইতেও সমান পারদর্শী পুলিনবাবু ছিলেন ব্রিটিশের চোখে মূর্তিমান আতঙ্ক। সুযোগ্য নেতৃত্বগুণে পূর্ববাংলার প্রান্তে প্রান্তে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ৫০০র অধিক শাখাকেন্দ্র। আজ আবারও পূর্ববাংলার দিকে দিকে হিন্দুর প্রাণ-মান রক্ষায় এইভাবে হিন্দুকে দক্ষ হাতে সংঘবদ্ধ করার সংকল্প নিতে কেউ কি এগিয়ে আসবে? কুলকুল শব্দে এই প্রশ্ন করতে করতেই যেন অনতিদূরে বয়ে চলে প্রমত্তা পদ্মা। সন্ন্যাসী এবার ফিরে চলেন পশ্চিমমুখে। যেতে হবে আরেক নির্ভীক ক্লান্তিহীন যোদ্ধার জন্মস্থলে। কোটালিপাড়া। সতীন্দ্রনাথ(সতীন) সেনের কোটালিপাড়া। যদিও তিনি বেড়ে উঠেছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আরো দক্ষিণের প্রত্যন্ত জনপদ পটুয়াখ...

ভারত বিভাজন এবং একটি বামৈস্লামিক বৃত্তান্ত

ছবি
  দুটো আগ্রাসী মতবাদ, কারো অমুক ছাড়া উপাস্য নাই, কারো মার্ক্সস ছাড়া মাবুদ নাই৷ ভারতের প্রবহমান ইতিহাসে আঁকে বাঁকে মিলিত হয়েছে বারবার৷ কেউ দুটো দেশ পেয়ে জিতে গেছে,কেউ প্রায় নিঃশেষ হয়ে মাটিতে মিশে গেছে৷ যেখানে যে জিতেছে, সেখানে সে অপরটিকে ধ্বংস করেছে৷ আবার, যেখানে তৃতীয় পক্ষ আছে সেখানে ব্যারিকেড ভেঙেছে 'হম দেখেঙ্গে'র মিলিত স্লোগানে৷ দুই মতবাদ বাম এবং ইসলাম৷ ভারতবিভাজনে তারা ছিল একে অন্যের তৌহিদী কমরেডস.... 'ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে, ইনশাআল্লাহ, ইনশাআল্লাহ' স্লোগান কি নিছকই উগ্র কিছু ছেলেমেয়ের সৃষ্টি? 'অধিকারী থিসিস' কী? জোসেফ স্ট্যালিনই বা ভারত নিয়ে কী ভাবতো? 'অযৌক্তিক' হলেও মুসলিমদের দাবী কংগ্রেসকে মানতে হবে। কেন এমন বলেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক এ কে ঘোষ? জানেন কি, ইসলামিক মৌলবাদীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে 'বন্দে মাতরম' নিষিদ্ধ করার দাবী তুলেছিল কমিউনিস্টরা? এরকম আরো চমকপ্রদ তথ্যসমন্বিত ইবুকটি ডাউনলোড করুন বিনামূল্যে। ছড়িয়ে দিন গ্রূপে গ্রূপে। নিজে পড়ুন। অন্যকে পড়ান। ডাউনলোড লিঙ্ক:  মেগা  |  গুগল ড্রাইভ  |  আমাজন ক্লাউড

ন-এ নরক, ন-এ নোয়াখালী

ছবি
১০ ই অক্টোবর, ২০২০৷ ১৯৪৬ সালে এমনই এক ১০ ই অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে অবিভক্ত ভারতে পূর্ববঙ্গের অতি দূর্গম স্থান নোয়াখালীতে সংঘটিত হয়েছিলো হিন্দু নরমেধযজ্ঞ৷ সেই স্মৃতিকে জাগরুক রাখতে আমাগো একখান দ্যাশ আসিলো পেজের তরফ থেকে বিশেষ নিবেদন নোয়াখালী গণহত্যার ইতিহাস আধারিত ধারাবাহিক ' ন-এ নরক, ন-এ নোয়াখালী '। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন ইবুকটি। আপনারা নিজে পড়ুন। গ্রূপে গ্রূপে ছড়িয়ে দিন।  ডাউনলোড লিঙ্ক:  মেগা  |  গুগুল ড্রাইভ  |  আমাজন ড্রাইভ

অমৃতের সন্ধানে - দ্বিতীয় পর্ব

ছবি
  প্রথম পর্বের  পর..... ফিরে যাওয়া যাক আরো কয়েক দশক আগে। স্বদেশী আন্দোলনের সময় দেশপ্রেমিক হিন্দু গৃহস্থের দল তখন বন্দে মাতরম্ উচ্চারণের উপহারস্বরূপ ব্রিটিশের পোষা গোর্খা পুলিশের লাঠির বাড়ি খাচ্ছেন বরিশালের ঘরে-ঘরে। এরকমই এক পরিস্থিতিতে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন বসল বরিশালে। সেখানে দেশপ্রেমিক জনতার মিছিলে বেপরোয়া লাঠি চালালো পুলিশ, মাথা ফেটে রক্তারক্তি অবস্থায় 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনির বজ্রনির্ঘোষ শোনা যেতে লাগলো চিত্তরঞ্জন গুহঠাকুরতার কণ্ঠ থেকে। পুলিশের লাঠির যেমন বিরাম নেই, তেমনই বিরাম নেই চিত্তরঞ্জনের বন্দেমাতরম্ ধ্বনির। একটা সময়ে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পথপার্শ্বের পুকুরের জলে পড়ে গেলেন তিনি। তখনো থামেনি তাঁর 'বন্দেমাতরম্' বলে দৃপ্ত কণ্ঠের স্বর। জল লাল হয়ে ওঠে রক্তে। অবশেষে চিত্তরঞ্জনের জীবন্ত সলিলসমাধি যখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে, তখনই এক পুলিশ নিজেই তাঁকে কোনোক্রমে জল থেকে টেনে তোলে। এই চিত্তরঞ্জনই পরে নেতাজি সুভাষকে দেশগৌরব উপাধি দেন কলকাতা নগরীর এক জনসভায়। বানারীপাড়া গ্রাম ধন্য, এমন এক দেশহিতৈষীর জন্ম দিয়ে। ভাবতে ভাবতে বানারীপাড়ার লঞ্চঘাটে এসে দুদণ্ড বসেন সন্ন্...

অনুশীলন সমিতি এবং বাঙ্গালীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্য

ছবি
অনুশীলন সমিতি।  সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদকামী এই দলটির নাম শোনেননি এমন ইতিহাসপাঠক বিরল।  এই সমিতি হিন্দুত্বের ভিত্তিতে বঙ্কিমচন্দ্রের 'অনুশীলন তত্ত্ব'-এর আদর্শে গড়ে ওঠা ব্রিটিশ বিরোধী দল। আজ আপনাদের জানাবো অনুশীলন সমিতি সম্পর্কিত বিশেষ কিছু তথ্য। ******** অনুশীলন সমিতির কিছু  নেতাদের নাম এইখানে দেওয়া হলো। 📌কলিকাতা: প্রমথ মিত্র , যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ( নিরালম্ব স্বামী ), অরবিন্দ ঘােষ, বিপিনচন্দ্র পাল, সুবােধচন্দ্র মল্লিক, তারকনাথ দাস, যােগেন্দ্র বিদ্যাভূষণ, সতীশচন্দ্র বসু, সখারাম গণেশ দেউস্কর, বারীন্দ্রকুমার ঘােষ, ব্ৰহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ হালদার, ভূপতি মজুমদার, নরেন্দ্র ভট্টাচাৰ্য, হরিকুমার চক্রবর্তী, যাদুগােপাল মুখার্জি প্রমুখ।  📌ঢাকা: আনন্দচন্দ্র পাকড়াশী, ললিতমােহন রায়, পি. সি. সেন, পুলিন বিহারী দাস, ভূপেশচন্দ্র নাগ, উপেন্দ্রচন্দ্র নাগ, শ্ৰীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, মনােরঞ্জন ব্যানার্জী, ডাঃ মােহিনীমােহন দাস, বীরেন্দ্র মজুমদার, হরেন্দ্র চক্রবর্তী, আশুতােষ দাশগুপ্ত, নরেন্দ্রমােহন সে...

অমৃতের সন্ধানে - প্রথম পর্ব

ছবি
শোনো বন্ধু শোনো, প্রাণহীন পুব বাংলার ইতিকথা ... কুঁজোরও মাঝেমধ্যে সাধ হয় চিত হয়ে শুতে। ঠিক তেমনই, পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় বিবেকবান সংস্কৃতিমনস্ক আঁতেল ভদ্দরলোক বাবু, যাঁরা "উফফ! ভাগ্যিস বাংলাদেশ ছিল, তাই বাঙালি সংস্কৃতিটা বেঁচে গেলো" বলে সকাল বিকেল তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে থাকেন, অথচ বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গ্রামে গ্রামে তাঁদের অনেকেরই পূর্বপুরুষের ভিটেতে কেন তুলসীমঞ্চে সন্ধ্যাপ্রদীপ দেওয়ার মত আর কেউ নেই সেকথা জিজ্ঞাসা করলেই গর্জনশীল চল্লিশা বা ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশের বিক্ষুব্ধ তরঙ্গগর্জনের ন্যায় "আহ! ওসব কথা থাক।" বলে ফোঁস করে ওঠেন, এবং এইভাবে খাঁটি নির্ভেজাল সম্প্রীতির চর্চা করার মাধ্যমে পরমগণতান্ত্রিক পরমধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ জ্ঞানের গাজররূপে নিজেদেরকে প্রতিপন্ন করে পরমানন্দে বিভোর হয়ে থাকেন—সেই বংবাবুদেরও মাঝেমধ্যে সাধ হয় দুদিনের জন্য বাঙালিয়ানা দেখাতে। কিন্তু সিলেটের হাওড়ে, বরিশালের নদীনালায় রাধারমণের ভক্তিগীতি, মুকুন্দদাসের চারণগীতির সুরে আজও ধ্বনিত হয়ে চলে এক করুণ আর্তি, "তুমি কেন জিততে পারলেনা রাজেন্দ্রলাল? তোমার সাথে সাথে আমরাও যে হেরে গেলা...