পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আসানসোলের ইমাম এবং একটি আদ্যন্ত হিন্দুবিদ্বেষী গালগল্পের সমাপ্তি

ছবি
  খুনিদের দেখেনি কেউ। কিন্তু রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল, খুন করেছে নাকি উগ্রবাদী হিন্দুরা। গোটা রাজ্যের মানুষ তেমনটাই জেনেছিলেন, বুঝেছিলেন। মার্চ ২০১৮। রামনবমীর উৎসবের দিন আনন্দে মেতেছেন হিন্দু সমাজের মানুষেরা। তারই মধ্যে রানিগঞ্জে সশস্ত্র আরবদের পরিকল্পিত আক্রমণ চলল ভারতীয়দের ধর্মীয় মিছিলের উপরে। গোটা এলাকা জুড়ে রক্তের হোলিখেলা। কুপিয়ে কুপিয়ে মারা হল মহেশ মণ্ডলকে। গাড়ির নিচে থেঁতলে গেলেন প্রতিমা দেবী। সানডে গার্ডিয়ান লিখল কয়েকশো ঘরছাড়া মানুষের কথা। পরবর্তী টার্গেট আসানসোল। এলাকার ভারতীয়রা প্রাণপণ চেষ্টায় রুখে দিলেন দাঙ্গাবাজ আরবদের। কিন্তু রানিগঞ্জের ঘটনা তো ফাঁস হয়ে যাবে। দুজনের নৃশংস খুনের ঘটনা চাপা দিতে কলকাতার মাওবাদীদের কলমে তৈরি হল রূপকথার গল্প। রূপকথায় থাকে স্বার্থপর দৈত্যের দয়ালু হয়ে ওঠার কথা। এখানে মানবিক ইমামের কাহিনী। রূপকথা নয়? নিজেরাই মিলিয়ে দেখুন। ২০১৯ সালে এপ্রিলে ভোটের আগে আরবদের উসকে দিতে কলকাতার মাওবাদী সাংবাদিক লিখেছিলেন ,  "আজ থেকে ঠিক এক বছর এক মাস আগে আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম ইমদাদুল রশিদির ছেলে, ১৭ বছরের সিবঘাতুল্লা খুন হয়েছিল। রামনবমীর মিছিল থেকে সশস্ত্...

#SaraiKaleKhan Incident

ছবি
  পঞ্চাদা: শুনেছ মাকুদা, উত্তর ভারতে দলিত বস্তি আক্রান্ত! মাকুদা: হবে না! হবেই তো। এই তো তোদের সাধের গৈরিক রাষ্ট্র, যেখানে দলিতের জীবনের নিরাপত্তা নেই, সংখ্যালঘুর জীবনের নিরাপত্তা নেই, ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে তারা শোষিত... পঞ্চাদা: বস্তির অসহায় দরিদ্র দলিতদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, পাথর মেরেছে, দরজায় লাথি মেরে হুমকি দিয়েছে। জঘন্য সব কাস্টিস্ট গালিগালাজ করেছে... মাকুদা: আরো হবে, আরো হবে। তাই তো বলি, যে কোনো মূল্যে এদের ঠেকাতে হবে, নইলে দলিত নিপীড়িত মানুষ আর বাঁচবে না রে। পঞ্চাদা: তলোয়ার আর ছুরি নিয়ে হামলা করেছিল, এবিপির নিউজ। সুমিত বলে একটি দলিত ছেলের পরিবারকে খুন করে ফেলার হুমকিও দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কী করছ? মাকুদা: শাহের পদত্যাগ করা উচিত। ছি ছি ছি। দলিতদের কোনো নিরাপত্তা নেই... দাঁড়া, আম্বেদকরের একটা ভালো ছবি খুঁজি। ফাটিয়ে পোস্ট দেব আজ সন্ধেবেলা। (টাইপ করতে করতে) কী নিয়ে ঝামেলা যেন? মন্দিরে ঢোকা? ঘোড়ায় চড়া? পঞ্চাদা: না, আসলে, ওই তোমাদের বাবাদের কমিউনিটির একটি মেয়েকে বাল্মীকি জাতির একটি ছেলে ভালোবেসে বিয়ে করেছে তো। তাই মেয়ের আব্বা পাড়ার অন্যদের নিয়ে বাল্মীকিদের বস্তিতে আক্রমণ চালিয়েছে। ...

বিবেকানন্দ ও কমিউনিস্ট #১

ছবি
  আজ আপনাদের কাছে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে দুই দলের বক্তব্যের নির্যাস রাখবো।  একদল হলেন অগ্নিযুগের বিপ্লবী বা কমরেড মুজাফফর আহমেদের ভাষায় হিন্দু রাজত্বের পুনরুত্থানকামী ব্রিটিশ বিরোধী। সূর্য সেন, হেমচন্দ্র ঘোষ, অনুশীলন সমিতির বিপ্লবীরা এবং স্বয়ং নেতাজী সুভাষচন্দ্র এই দলে পড়েন। এঁরা জাতীয়তাবাদী। মোটামুটি যেকোনো বিপ্লবী দলে যেসব বই পড়তেই হতো সেগুলি হলো ভগবত গীতা, বিবেকানন্দ রচনাবলী এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ। ( দ্য রেনেসাঁ টু মিলিট্যান্ট ন্যাশনালিজম, ডঃ শংকর ঘোষ) মাস্টারদা সূর্য সেন আনন্দমঠের আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর দল। বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিদিন পড়তে হতো বিবেকানন্দের জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। (সূর্য সেনের স্বপ্ন ও সাধনা, বিপ্লবী অনন্ত সিংহ) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সুভাষ বসুর নেতাজী হয়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। নেতাজী লিখেছেন (“ভারত পথিক” গ্রন্থে),  “বিবেকানন্দের আদর্শকে যে সময়ে জীবনে গ্রহণ করলাম তখন আমার বয়স বছর পনেরােও হবে কি না সন্দেহ। বিবেকানন্দের প্রভাব আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দিল। তাঁর আদর্শ ও তাঁর ব্যক্তিত্বের বিশ...

#TheKashmirFiles নন স্পয়েলার রিভিউ

ছবি
  কাশ্মীর ফাইলস রেটিং: ৯.৫/১০ তিক্ত সত্যকে কখনো কখনো মিথ্যে বলেই মনে হয়। আমাদের অবচেতন বারবার বলতে থাকে, ‘না, এমনটা হওয়া অসম্ভব’। কিন্তু সেই মুহূর্তে পর্দায় ফুটে ওঠে অসহায়ের আর্তনাদ। আপনি বারবার নিজেকে প্রবোধ দিতে থাকেন, “আরে, এ তো শুধুই গল্প...সিনেমা...কল্পনা...” কিন্তু বারবার খোঁচা দিয়ে যায় সেই কয়েকটা স্লোগান। সেই কয়েকটা স্লোগান, যা আপনি জানেন সত্যিই ছিল তা। সেই স্লোগান দিয়েই কাশ্মীরের হিন্দুদের জাস্ট শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। না... সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। সারভাইভ করেছে তারা। তীব্র অপমান... বর্বরতম অত্যাচারের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হতে হতে তারা দেখেছে সেকুলার সিস্টেম কিভাবে বর্বরদের শয্যাসঙ্গিনী হয়েছে। একজন কিশোর সারভাইভার, যে তার পরিবারের পুরুষদের মরতে দেখেছে, যে তার পরিবারের মহিলাদের ওই বর্বর কুকুরদের শিকার হতে দেখেছে; সে সেক্যুলার স্টেটের মেশিনারির কাছে শুনেছে “চুপ...তুমি কিছুই দেখোনি...এ সবই গল্পকথা...”। এক বৃদ্ধা তাঁর সম্পূর্ণ পরিবারকে হারিয়েও শুনতে বাধ্য হন “এসব বলতে নেই...জানেন না আমরা সেকুলার...” এই সেকুলার সিস্টেমকে, তার ইসলামোফিলিক সঙ্গিনীদের বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে একটি মুভি।...

ভগৎ সিং ও কিছু অনালোচিত লেখার ভাবানুবাদ

ছবি
  পাঞ্জাবী ভাষা এবং লিপির সমস্যা ~ভগৎ সিং (বিশেষ কিছু অংশের ভাবানুবাদ) [ The problem of Punjabi language and script, Bhagat Singh ] 📌 "শতাব্দীব্যাপী নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রামে লিপ্ত থাকা এবং মুসলিম অনুপ্রবেশের ফলে পাঞ্জাবের সাহিত্য একেবারে ম্লান হয়ে গেছে৷ হিন্দি ভাষা বিলুপ্তির চরম সীমায় পৌঁছে গেছে৷…… নিপীড়িতের জন্য সহমর্মিতা এবং সহায়তার আভাস আমরা পাই গুরু তেগ বাহাদুরের শিক্ষায়, 'বনহি জিন্দা দি পকড়িয়ে, সির দিজিয়ে বনহি না ছোড়িয়ে, গুরু তেগবাহাদুর বোলেয়া, ধরতি পে ধরম না ছোড়িয়ে' [‘बन्ही जिन्हां दी पकड़िए, सिर दीजिए बन्ही न छडिए, गुरु तेगबहादुर बोल्या, धरती पै धरम न छोड़िए’] গুরু তেগবাহাদুর বলছেন, পৃথিবীতে কখনো ধর্ম পরিত্যাগ কোরো না৷ এই উদ্দীপনার সাথেই বাবা বান্দা (বাহাদুর) এবং অন্যরা মুসলিম শাসকদের সাথে নিরন্তর লড়াই করেছিলেন৷ পরে যখন শিখদের একটি আইনভঙ্গকারী নৈরাজ্যবাদী দল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তারা বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়৷ তখন নূতন কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয় নি৷ মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে তারা ত্যাগ, বীরত্ব এবং প্রকৃত যোদ্ধৃভাবের সাথে লড়লেও কোনরুপ ভবিষ্যত পরিকল্পনার সুযোগ তাদে...

#TheKashmirFiles: একটি ‘নেগেটিভ’ রিভিউ

ছবি
  সত্য যত সত্যই হোক, কড়াভাবে বলতে নেই৷ যতটা সম্ভব কোমলভাবে বলতে হয়৷ নইলে প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ তৈরী হয়৷ যেমন ধরুন, প্রথমেই দেখাতে হবে পিওকে থেকে ভারতীয় কাশ্মীরের দিকে উড়ে চলেছে একটি সাদা পায়রা৷ বুদ্ধিজীবি পায়রাটি ফারুক মালিকের জানালা থেকে গিয়ে বসলো পুষ্কর পন্ডিতের জানালায়৷ দূর থেকে ভেসে আসছে আজান ও শিবতান্ডবস্তোত্র একত্রে৷ হিমেল হাওয়া ভেসে ভেসে চলেছে আজান থেকে স্তোত্রে৷ পন্ডিতগৃহিনী ব্যাগ গোছাচ্ছেন৷ ব্যাগ গোছাতে গোছাতেই প্রতিবেশিনী মালিকের বেগমকে শিখিয়ে দিচ্ছেন নদরু আখনির নতুন রেসিপি৷ এরপর সিনেমার মুল অংশ, ১.পন্ডিতদের মেরে তাড়িয়েছে বললে হবে না৷ বলতে হবে বহিরাগতদের উস্কানিতে পন্ডিতরা যখন স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছিলেন, তখন আহমেদ দার ইত্যাদিরা তাদের ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছিলেন৷ ২.সরলা ভাটকে ‘মেকানিকাল saw’ দিয়ে চিরে ফেলেছিলো, বললে হবে না৷ বলতে হবে, ওনাকে আগে এনেস্থেশিয়া দিয়ে তারপর খুবই কোমলহাতে saw-এর ব্যাবহার হয়েছিল। ব্যাবহারকারীদের বুক ফাটানো কান্না দেখলে যে কারো মন গলে যাবে৷ ৩. “রালিভ গালিভ চালিভ” স্লোগানে হুমকি দেওয়া হত বললে হবে না৷ বলতে হবে ভৈরবী রাগে সেতারে সুর তুলে এমনভাবে “রালিভ গালিভ চালি...

বন্দেমাতরম এবং তেনারা #১

ছবি
  এ সেই বন্দেমাতরম যা নিয়ে ১৯২০ থেকে কংগ্রেসের মধ্যে সম্প্রদায়গত বিবাদ চরমে ওঠে৷ এ সেই বন্দেমাতরম ১৯২৩ সালে কংগ্রেসের কাকিনাড়া অধিবেশনে যে স্তোত্র পরিবেশনে ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতজ্ঞ বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্করকে “শিরক” বিধায় বাধা দিয়েছিলেন কংগ্রেসের নবনির্বাচিত সভাপতি “গান্ধীজির ডানহাত” মৌলানা মহম্মদ আলি৷ পন্ডিতজী সেই আপত্তিতে কর্ণপাত না করায় তিনি সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান৷ এ সেই বন্দেমাতরম ২০ শে মার্চ, ১৯৩৭ ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ কাউন্সিল’ যে গানকে কংগ্রেস কর্তৃক ‘জাতীয় স্তোত্র’ ঘোষণার তীব্র বিরোধিতায় একটি রেজোলিউশান পাশ করে। এই রেজোলিউশানে আরো বলা হয়, বন্দে মাতরম শুধু ইসলাম বিরোধী এবং মূর্তিপুজক সংগীতই নয়, ভারতে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষের পথে বড়ো বাধাও। ১৯৩৪ সালে মহম্মদ আলী জিন্নাহ একটি আর্টিকেলে লেখেন, “Muslims all over india have refused to accept Vande Mataram or any expurgated edition of the anti-Muslim song as a binding national anthem.”    ভারতব্যাপী কোন মুসলমান বন্দেমাতরম গাইবে না৷ এ সেই বন্দেমাতরম যা কারো মজহবী অনুভূতিতে আঘাত করে তাই অবিলম্বে কংগ্রেসের অধিবেশনে ...